জগদীশচন্দ্র বসু ন্যাশনাল স্কলারশিপ (JBNST) ভারতের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রোগ্রাম। এই স্কলারশিপটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, এবং গবেষণার ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আর্থিক এবং শিক্ষাগত সহায়তা প্রদান করে। এটি বিখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যিনি রেডিও তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ, এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানে অসাধারণ অবদান রেখেছিলেন। এই প্রতিবেদনে আমরা এই স্কলারশিপের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, সময়সীমা, এবং পুরস্কারের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করব।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
জগদীশচন্দ্র বসু ন্যাশনাল স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে:
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
- শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
- উচ্চ মাধ্যমিক (১২তম শ্রেণি) বা সমতুল পরীক্ষায় ন্যূনতম ৮৫% নম্বর সহ উত্তীর্ণ হতে হবে।
- বিজ্ঞান বিভাগে (পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, বা গণিত) পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
- স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি-সম্পর্কিত বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
বয়সসীমা:
- আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হতে হবে (নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য)।
অর্থনৈতিক অবস্থা:
- পরিবারের বার্ষিক আয় সাধারণত ৬ লক্ষ টাকার নিচে হতে হবে। তবে, মেধার ভিত্তিতে এই শর্ত কিছুটা শিথিল হতে পারে।
অন্যান্য শর্ত:
- শিক্ষার্থীকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে ভর্তি থাকতে হবে।
- গবেষণা বা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্পে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
কারা এই স্কলারশিপ পাবেন?
এই স্কলারশিপটি প্রাথমিকভাবে নিম্নলিখিত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য:
- যারা বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি-সম্পর্কিত বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
- যারা গবেষণায় আগ্রহী এবং ইতিমধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রকল্পে কাজ করছেন।
- অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
- যারা জগদীশচন্দ্র বসুর মতো বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদান রাখতে চান।
আবেদন পদ্ধতি
জগদীশচন্দ্র বসু ন্যাশনাল স্কলারশিপের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সহজ এবং স্বচ্ছ। নিচে ধাপগুলো উল্লেখ করা হলো:
অনলাইন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন:
- সরকারি স্কলারশিপ পোর্টাল (যেমন: National Scholarship Portal - scholarships.gov.in) বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
- আবেদনকারীকে একটি বৈধ ইমেল আইডি এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।
ফর্ম পূরণ:
- আবেদন ফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, এবং পরিবারের আর্থিক বিবরণ পূরণ করতে হবে।
- প্রয়োজনীয় নথি (যেমন: মার্কশিট, আয়ের প্রমাণপত্র, আধার কার্ড) আপলোড করতে হবে।
গবেষণা প্রকল্প বা স্টেটমেন্ট অফ পারপাস (SOP):
- আবেদনকারীকে একটি SOP জমা দিতে হবে, যেখানে তাদের গবেষণার আগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বর্ণনা করতে হবে।
- গবেষণা প্রকল্প থাকলে তার বিবরণ এবং ফলাফল উল্লেখ করতে হবে।
জমা দেওয়া:
- ফর্ম পূরণের পর তা অনলাইনে জমা দিতে হবে। জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য যাচাই করে নিন।
আবেদনের সময়সীমা
জগদীশচন্দ্র বসু ন্যাশনাল স্কলারশিপের আবেদন সাধারণত প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয়। ২০২৫ সালের জন্য সম্ভাব্য সময়সীমা নিম্নরূপ:
|
গুরুত্বপূর্ণ
তথ্য |
তারিখ/লিংক
|
|
Date of Examination |
24/08/2025 |
|
Online application process start from |
01/06/2025 |
|
Last date of application |
31/07/2025 |
|
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফরম আবেদন পুরণের
জন্য |
|
|
স্কলারশিপ সম্পর্কিত অফিশিয়াল নোটিশ |
দ্রষ্টব্য: সঠিক তারিখের জন্য সরকারি স্কলারশিপ পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নিয়মিত চেক করুন।
পুরস্কারের পরিমাণ
জগদীশচন্দ্র বসু ন্যাশনাল স্কলারশিপের আওতায় শিক্ষার্থীরা নিম্নলিখিত সুবিধা পান:
- আর্থিক সহায়তা:
- স্নাতক স্তরে: প্রতি মাসে ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা।
- স্নাতকোত্তর স্তরে: প্রতি মাসে ১৮,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা।
- গবেষণা প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত অনুদান: ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা (প্রকল্পের ধরণের উপর নির্ভর করে)।
- অন্যান্য সুবিধা:
- গবেষণাগারে প্রবেশাধিকার।
- বিজ্ঞান সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ।
- বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের সাথে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম।
কেন এই স্কলারশিপ গুরুত্বপূর্ণ?
জগদীশচন্দ্র বসু ন্যাশনাল স্কলারশিপ শুধু আর্থিক সহায়তাই প্রদান করে না, বরং শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে উৎসাহিত করে। এটি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যেখানে তারা তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে এবং জগদীশচন্দ্র বসুর মতো বিশ্বমানের বিজ্ঞানী হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারে।
জগদীশচন্দ্র বসু ন্যাশনাল স্কলারশিপ ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু আর্থিক সহায়তাই পান না, বরং তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের সম্ভাবনাও প্রস্ফুরিত হয়। আপনি যদি বিজ্ঞানে আগ্রহী এবং উচ্চশিক্ষায় অবদান রাখতে চান, তাহলে এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করুন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে ভুলবেন না এবং আপনার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যান।
আরো জানুন
Madhyamik HS pass scholarship 2025 ! মাধ্যমিক পাস করলেই পাবে স্কলারশিপ

